হোম »  সেক্সচুয়াল হেলথ »  সমকামিতা ও কুসংস্কার
পড়ুন | READ IN

সমকামিতা ও কুসংস্কার

সমকামিতার প্রতি সমাজের চোখ রাঙানোর ঘটনা নতুন কিছু না। যুগ যুগ ধরে মানুষ সমকামি মানুষকে এক ঘরে করে রেখেছে। তাঁদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা এর জন্য দায়ী। এই ভ্রান্ত ধারনাগুলো দূর হলে তবেই একমাত্র মানুষ সমকামিতাকে আর খারাপ চোখে দেখবে না।

সমকামিতা ও কুসংস্কার

সুপ্রিম কোর্ট আজ 377 ধারা রদ করেছে।

সমকামিতার প্রতি সমাজের চোখ রাঙানোর ঘটনা নতুন কিছু না। যুগ যুগ ধরে মানুষ সমকামি মানুষকে এক ঘরে করে রেখেছে। তাঁদের সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা এর জন্য দায়ী। এই ভ্রান্ত ধারনাগুলো দূর হলে তবেই একমাত্র মানুষ সমকামিতাকে আর খারাপ চোখে দেখবে না।    

সমকামিতা সম্পর্কে বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারনা

সমকামিতা নিয়ে মানুষের মনে বিভিন্ন রকম ধারনা আছে। যার মধ্যে বেশিরভাগটাই ভ্রান্ত। ভারতীয় সমাজের অগ্রগতির জন্য সেই সব ভ্রান্ত ধারনা দূরীকরণ অত্যন্ত প্রয়োজন। নিচে সমকামিতা সম্পর্কিত বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারনার উল্লেখ করা হলঃ

1. এর ফলে মানুষের বিয়ের হার কমে যাবে ফলত বংশবৃদ্ধি হবে না এবং পরিবারপ্রথা লোপ পাবে।
- বিজ্ঞানীদের গবেষণায় জানা গেছে বিভিন্ন জেনেরিক ফ্যাক্টরের জন্য মানুষের লিঙ্গসচেতনতা তৈরি হয়। যার ফলে পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই মানুষ বুঝতে শুরু করে সে ছেলে না মেয়ে। সমকামিতা গ্রহণযোগ্য হলে সমকামি মানুষ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে এবং পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হলে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যারও সমাধান হবে।

2. অনুমোদিত হলে সমকামি কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাবে এবং বিভিন্ন সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ সংক্রমিত হবে।

- আইনের মাধ্যমে সমকামিতা না রোধ করে সুরক্ষিত যৌনজীবন পালনের মাধ্যমে মানুষকে HIV সংক্রমণের থেকে রক্ষা করা উচিত।
সমকামিতাকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করায় সমকামি পুরুষরা ডাক্তারের কাছে যেতে কুণ্ঠা বোধ করত। ফলে সুচিকিৎসা ও ডাক্তারের পরামর্শের অভাবে তাঁদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিত।  


 HIV/AIDS দূরীকরণের একমাত্র উপায় সমকামিতা রোধ করা নয়, বরং মানুষকে যৌন শিক্ষা দেওয়া। যতদিন পর্যন্ত সমকামিতা অপরাধ হিসাবে পরিগণিত হবে ততদিন মানুষের কাছে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছতে পারবে না। সমকামিতার আইন রদ করা হলে মানুষকে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন শিক্ষাদান সহজে করা যাবে।

3. পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে সমকামিতা দেখা দিয়েছে
বিভিন্ন মানুষের ধারনা ভারতের বাইরে বসবাসকারী মানুষের থেকে সমকামিতা বিষয়টি ভারতের মানুষের মধ্যে এসেছে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে একজন কন মাপকাঠিতে বিচার করবে কোনটা ভারতীয় আর কোনটা নয়? কোনটা প্রাকৃতিক যৌনতা আর কোনটা নয়? সম লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে যৌনতা অপরাধ আর বিসম লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে যৌনতা স্বাভাবিক? ভারতের বিভিন্ন পুরাণে সমকামিতার নিদর্শন রয়েছে।

4. সমকামিতা এক ধরণের অসুস্থতা বা পারভারশন
তিন প্রধান ধরণের কামের মধ্যে অন্যতম সমকামিতা। বাকী দুটো হল- বিসম কামিতা এবং উভকামিতা। সমকামিতা কোনও অসুখ নয় যে এর জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন। বিসম কামিতার মতোই এটিও একটি অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা।

সমকামিতা অপরাধ নয়। কিন্তু তারপর?

সকল মানুষের সমান অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আরও অনেক পরিবর্তন প্রয়োজন। দেখে নিন সেগুলো কীঃ

1. চাকরিক্ষেত্রে সমকামি মানুষের প্রতি বৈষম্য দূর করা
সমকামি মানুষদের চাকরি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সকলের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করার আগে এই ধরণের সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।   

2. ঘৃণ্য অপরাধ দমন করা প্রয়োজন
মানুষের জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বয়স, লিঙ্গ, রাজনৈতিক মতাদর্শ ইত্যাদি বিভিন্ন পছন্দ অপছন্দের কারণে মানুষকে প্রায়ই সমাজের কিছু মানুষের হেনস্থার শিকার হতে হয়। সমকামি মানুষদের যেন এই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয় সে খেয়াল রাখা অবশ্যই প্রয়োজন।  

3. সচেতনতা বৃদ্ধি
সমকামি মানুষদের সমাজে গ্রহণ যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাঁদের সম্পর্কে মানুষের মনে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। অনেক কম বয়সেই মানুষের মনে যৌন সচেতনতা তৈরি হয়। তাই সমকামিতা কোনও অপরাধ বা অপ্রাকৃতিক ঘটনা নয়। বিসম কামিতার সঙ্গে যেহেতু এর কোনও পার্থক্য নেই তাই সমকামি মানুষদেরও সমান মর্যাদা দেওয়া প্রয়োজন।  

মন্তব্য

স্বাস্থ্যের খবর সাথে সুস্থ থাকার জন্য অভিজ্ঞদের টিপস, ডায়েট পরিকল্পনা জানতে, লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

এই নিবন্ধটি সহায়ক ছিল হাঁ or না

................... বিজ্ঞাপন ...................

................... বিজ্ঞাপন ...................

 

................... বিজ্ঞাপন ...................

................... বিজ্ঞাপন ...................

-------------------------------- বিজ্ঞাপন -----------------------------------