হোম »  লিভিং হেলথি »  Dark Circles: জানেন, কিডনির সমস্যা থাকলেও চোখের নীচে ডার্ক সার্কেল তৈরি হয়?

Dark Circles: জানেন, কিডনির সমস্যা থাকলেও চোখের নীচে ডার্ক সার্কেল তৈরি হয়?

বাজার চলতি কিছু ক্রিম অনেক সময় সমাধান করলেও স্থায়ী সমাধান হল প্রাকৃতিক উপায় এবং শরীরের সুস্থতা।

Dark Circles: জানেন, কিডনির সমস্যা থাকলেও চোখের নীচে ডার্ক সার্কেল তৈরি হয়?

নানা কারণে চোখের নীচে কালি পড়ে বলে জানিয়েছেন লিউক কুটিনহো

হাইলাইট

  1. কীভাবে ডার্ক সার্কেল কমাবেন? জানাচ্ছেন লিউক কুটিনহো
  2. শরীরে জলের পরিমাণ কমে গেলেও চোখের নীচে কালি পড়তে পারে
  3. কিডনির সমস্যার অন্যতম লক্ষণ ডার্ক সার্কেল

সারাক্ষণ কি আপনার চোখের নীচে কালি (Dark Circles)? সেলেব হেল্থ কোচ লিউক কুটিনহোর (Luke Coutinho) মতে, অনেকের এটা বংশগত। বয়স বাড়লেও এই সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে থাকতে পারে শারীরিক অসুস্থতাও। চোখের নীচের ত্বক সবচেয়ে পাতলা চামড়া দিয়ে তৈরি। তাই এই সমস্যা মেটাতে বাড়তি যত্ন নিতে হবে আপনাকে। বাজার চলতি কিছু ক্রিম অনেক সময় সমাধান করলেও স্থায়ী সমাধান হল প্রাকৃতিক উপায় এবং শরীরের সুস্থতা। তাই নিয়মিত জলপান, পর্যাপ্ত ঘুম, প্রচুর সবজি-ফল খাওয়ার পাশাপাশি দেখতে হবে, কিডনি বা লিভাবে কোনও সমস্যআ আছে কিনা। তাহলে সবার আগে সেই সমস্যার সমাধান করুন ঝটপট। 

7 Popular Health Myths: স্বাস্থ্য নিয়ে এই ভুল ধারণাগুলো ভাঙুন আজই

8m3fa8gঅসুস্থ হলেও চোখের নীচে কালি পড়বে
সৌজন্যে: আই স্টক

কীভাবে ডার্ক সার্কেল তৈরি হয়?

লিউক বলছেন, চোখের নীচে ত্বক শরীরের মধ্যে সবচেয়ে পাতলা। এই ত্বকের নীচে অসংখ্য সূক্ষ্ম শিরা জালিকা আছে। যার মাধ্যমে সারা শরীরে প্রবাহিত হয় লোহিত রক্ত কণিকা। কখনও এই ত্বক বা জালিকায় আঘাত লাগলে কর্ত জমে কালচে ভাব ছড়ায়। যদিও পরে তাকে ঠিক করে দেয় শরীরে থাকা এনজাইম। এতে রক্ত জমাট বাঁধা ঠিক হয়ে গেলেও চোখের নীচে থেকে যায় হালকা কালচে বা নীলচে ছোপ। এছাড়া, চোখের নীচে আঘাত লাগলেও ডার্ক সার্কেল তৈরি হতে পারে।

7kf8d6sসেলেব হেল্থ কোচ লিউক কাউটিনহো জানাচ্ছেন কেন ডার্ক সার্কেল পড়ে 
সৌজন্যে: ফেসবুক

কেন ডার্ক সার্কেল পড়ে চোখের নীচে?

লিউক কাউটিনহোর মতে, অনেক কারণ আছে এর পেছনে। সেগুলো কী কী? জেনে নিন

১. অনিদ্রা এবং অবসাদ

এই দুই সমস্যা থাকলে চোখের নীচে কালি পড়বেই। তাই ইনসমনিয়ায় যাঁরা ভোগেন তাঁদের চোখের নীচে গাঢ় কালি থাকে সবসময়েই। এছাড়া, ঘুম না হলে অবসাদ আসবেই। এতেও ডার্ক সার্কেল দেখা দেবে। তাই সঠিক ডায়েটেপর পাশাপাশি সঠিক ঘুমটাও ভীষণ জরুরি।

ogsqdfs8অনিদ্রাও ডার্ক সার্কেলের অন্যতম কারণ
 

২. শরীরে দূষিত পদার্থ জমলে

সারাদিন পরিবেশ আর খাবার থেকে প্রচুর বিষ ঢুকছে আমাদের শরীরে। রাতে পর্যাপ্ত ঘুমালে সেই বিষ আপনা থেকেই বের হে শরীরকে রাখএ তাজা। কিন্তু ঘুম না হলেই সেই বিষ এসে জমে লিভার আর কিডনিতে। যার থেকে শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখের নীচে তৈরি হয় ডার্ক সার্কেল।.

৩. সাইনুসাইটিস

আপনার সাইনুসাইটিস আছে? তাহলে আপনার চোখের বীচে কালি পড়তেই পারে। সাইনুসাইটিসের ফলে, চোখের চারপাশের শিরা-উপশিরায় কিছু ব্লকেজ সৃষ্টি হয়। ফলে, রক্ত চলাচল ঠিকমতো না হতে পারায় এই সমস্যা দেখা দেয়।

৪. গ্যাজেট ম্যানিয়া

মোবাইল, কম্পিউটার সহ যে কোনও গ্যাজাটে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলেও আস্তে আস্তে চোখের নীচে কালি পড়ে। জানিয়েছএন লিউক। তাঁক যুক্তি, স্ক্রিন থেকে বেরিয়ে আসে তেজস্ক্রিয় রশ্মি এই সমস্যার নেপথ্য কারণ।

 Turmeric Drink: এই পানীয় হজমশক্তি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়! কীভাবে?

tvocfp8সারাক্ষণ গ্যাজেটে চোখ! তাহলে তো ডার্ক সার্কেল হবেই
 

৫. রক্তশূন্যতা

ডার্ক সার্কেলের অন্যতম কারণ রক্তশূন্যতা। শরীরে হিমোগ্লোবিন অত্যধিক কমে গেলে চোখের নীচে কালি পড়বেই। তাই এই সমস্যা দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষা করে জেনে নিন লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা ঠিক আছে কিনা।

৬. লিভারের সমস্যা

যাঁরা ফ্যাটি লিভার, হেপাটাইটিস, সিরোসিস বা স্লাগিস লিভার সমস্যআয় ভুগছেল, লিউক বলছেন তাঁরাও ভুগতে পারেন ডার্ক সার্কেল সমস্যায়। কারণ, লিভার বা যকৃত আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পাশাপাশি, ঠিক মতো ঘুম না হলে. টেনশন বা অবসাদে ভুগলে বা হঠাৎ করে ওজন কমে গেলেও চোখের নীচে কালি পড়তে পারে। 

5muspn9লিভারে সমস্যা থাকলেও চোখের নীচে কালি পড়ে


৭. জলশূন্যতা

শরীরে ১ শতাংশ জলের অভাব ঘটলেও চোখের নীচে হতে পারে ডার্ক সার্কেল। তার জন্য রোজ প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে। আর একই সঙ্গে চোখের নীচে শসার টুকরো রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লিউক। শসার রস কমিয়ে দেয় এই কালি।  

৮. ভিটামিনের অভাব

শরীরে ভিটামিন এ, ই, কে, সি-র অভাব ঘটলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে এই ভিটামিনগুলির অভাবে নষ্ট হতে পারে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য। অকালে ঝরে বা পেকে যেতে পারে চুল। শরীরে এনার্জির ঘাটতিও দেখা দিতে পারে। 

ডার্ক সার্কেল বনাম কিডনির সমস্যা

ডার্ক সার্কেলের জন্য কিডনির সমস্যাকেও দায়ী করেছেন লিউক। তাঁর মতে, অনেক সময় কিডনির সমস্যআ থাকলেও চোখের নীচে কালি পড়ে। কিডনির কাজ শরীরের দূষিত পদার্থকে ইউরিনের আকারে বের করে দেওয়া। কোনও কারণে কিডনি যদি সেই কাজে ব্যর্থ হয় তাহলে শরীরের জমে থাকা বিষ কালি ফেলে চোখের নীচে। বুঝিয়ে দেয়, আপনি সুস্থ নেই।  ফলে, কিডনিতে কোনও সমস্যা তৈরি হলে সবার আগে ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিন।

কীভাবে ডার্ক সার্কেল কমাবেন?

লিউক আরও কয়েকটি সহজ ঘরোয়া সমাধানের পথ বাতলেছেন। দেখুন সেগুলো:

১. টি ব্যাগ

ক্যামোমিলা বা ব্ল্যাক টি ব্যাগ নিয়ে গরম জলে ডুবিয়ে রাখুন। তারপর তাকে তুলে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে রোজ দিনে দুবার মিনিট ১৫-২০ চোখের নীচে রাখুন। টানা কয়েকদিন করলেই সুফল মিলবে।.

d33er5goফোটানো চা-পাতার ব্যাগ চোখের নীচে নিয়মিত লাগালেও কালি কমবে
 

২. তরমুজের বীজ

বাড়িতে তরমুজ আসে নিশ্চয়ই। তার থেকে বীজ নিয়ে শুকিয়ে জলে ফুটিয়ে নিন। বীজ নরম হলে আর জলের রং হালকা বাদামি হলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিন। তারপর দিনে বার দুয়েক এই পানীয় নিন তিন-চার দিন।উপকার পাবেন।

mlbjof4তরমুজের বীজ চোখের নীচের কালি কমাতে সাহায্য করে
 

৩. পার্সলে আর ধনে

পার্সলে পাতা আর ধনে গুঁড়ো করে সমপরিমাণ নিয়ে তাতে লেবুর রস মেশান। এবার জলে গুলে এই মিশ্রণ পান করুন দিনে ২-৩ বার। তবে কিডনির সমস্যা বা পটাশিয়াম লেভেল কম থাকলে ডাক্তারবাবুর সহ্গে পরামর্শ করেই এই পদ্ধতি মানা ভালো। 

৪. হলুদ

আরও নানা সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি কিডমির সমস্যা সমাধানেও কাজ দেয় হলুদ।

3rvevtn8ডার্ক সার্কেল কমাতে হলুদ খুব উপকারি
 

৫. আরও সমাধান

এছাড়াও লিভার আর কিডনি ভালো রাখতে লিউক নিয়মিত অ্যাপেল সিডার ভিনিগার, বীটরুট, রসুন, গাজর, ফল আর শাক-সবজি খেতে বলেছেন। তাঁর মতে, এসবের মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরের সমস্ত দূষিত পদার্থ দূর করবে প্রাকৃতিক উপায়ে। 

সব শেষে লিউকের পরামর্শ, মূল শুধু সবজি বা ফল খান। এতে শরীর সুস্থ থাকবে। আপনি ঝলমল করবেন সুস্বাস্থ্যের গুণে।

সতর্কীকরণ: এই নিবন্ধের জন্য এনডিটিভির কোনও দায়িত্ব নেই। নিবন্ধে লেখা তথ্য পরিবেশনের আগে দয়া করে ডাক্তারবাবু বা পুষ্টি বিজ্ঞানীর পরামর্শ নিন।

মন্তব্য

স্বাস্থ্যের খবর সাথে সুস্থ থাকার জন্য অভিজ্ঞদের টিপস, ডায়েট পরিকল্পনা জানতে, লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

................... বিজ্ঞাপন ...................

................... বিজ্ঞাপন ...................

 

................... বিজ্ঞাপন ...................

-------------------------------- বিজ্ঞাপন -----------------------------------