হোম »  লিভিং হেলথি »  জেট ল্যাগ-শুধু ঘুমেরই ক্ষতি করে না। জেনে নিন এর আরও ক্ষতিকর দিকও
পড়ুন | READ IN

জেট ল্যাগ-শুধু ঘুমেরই ক্ষতি করে না। জেনে নিন এর আরও ক্ষতিকর দিকও

বিমানে ভ্রমণের ফলে যে যে দেশে আমরা বিভিন্ন সময়ে পৌঁছাচ্ছি বা ফিরে আসছি এই গোটা প্রক্রিয়া আমাদের শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দে তালগোল পাকিয়ে দেয়।

জেট ল্যাগ-শুধু ঘুমেরই ক্ষতি করে না। জেনে নিন এর আরও ক্ষতিকর দিকও

বিভিন্ন টাইম জোনে বিমানে ঘোরার ফলে শরীরে যে ক্লান্তি আসে তারই নাম জেট ল্যাগ

হাইলাইট

  1. যখন বিভিন্ন টাইম জোনে আমরা বিমানে ভ্রমণ করি তখনই জেট ল্যাগ শুরু হয়
  2. শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দে ব্যাঘাত ঘটায় এই জেট ল্যাগ
  3. অন্য দেশে অন্য সময়ে আমাদের চলে যাওয়াকে শরীর তৎক্ষণাৎ মেনে নিতে পারে না

দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানে ভ্রমণ করছেন। একই দিনে দেশে বিদেশে গুলিয়ে যাচ্ছে দিন রাতের হিসেবও। ফল, অবশ্যম্ভাবী জেট ল্যাগ। জেট ল্যাগ শুধু যে আমাদের ঘুমের নিয়মের বারটা বাজায় তাই নয় শরীরেও সুদূরপ্রসারী ফল আছে এই বিমান ভ্রমণের।

বিমানে ভ্রমণের ফলে যে যে দেশে আমরা বিভিন্ন সময়ে পৌছাচ্ছি বা ফিরে আসছি এই গোটা প্রক্রিয়া আমাদের শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দে তালগোল পাকিয়ে দেয়। মানুষের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি যা পৃথিবীর 24 ঘন্টার আলো এবং গাঢ় অন্ধকারের সাথে তাল মিলিয়ে চলে- দীর্ঘ বিমান যাত্রা আর দেশ বিদেশে ভ্রমণ তাঁর ছন্দপতন ঘটায়।

সাধারণত ঘুমের সাথে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রার ভীষণ রকমের গভীর একটা সম্পর্ক আছে। ঘুমের সময় শরীরের ভেতরের সেই তাপমাত্রায় সবচেয়ে কম বিন্দুতে মিলিত হয় যা সাধারণত বাইরের তাপমাত্রার সাথে সম্পর্কিত নয়। ঘুমের আগে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় এবং সাধারণত ঘুম থেকে দুই থেকে তিন ঘন্টা আগে তা সর্বনিম্ন হয়।আপনি কখন ঘুম থেকে উঠবেন তার উপরই নির্ভর করে আপনার কত ঘুমের বা বিশ্রামের প্রয়োজন।


যখন আপনি একটি নতুন টাইম জেনে যান আপনার  শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কিন্তু সেই সময় পরিবর্তনের কথা জানতেও পারে না। ফলত সে তাঁর নিয়ম মেনেই কমতে থাকে। এই কমতে থাকার সময়ে আপনি যদি জেগে থাকেন বা আলোর মধ্যে থাকেন তাহলে শরীরের সমস্যা শুরু হয়। বাইরের তাপমাত্রা আপনাকে জাগিয়ে রাখে অথচ ভেতরে তাপমাত্রা তখন ঘুম,এর স্বাভাবিক নিয়মে কমে যেতে থাকে। এই সময়েই আপনি জেট-ল্যাগে ভুগতে শুরু করেন।

উদাহরণস্বরূপ, ওয়াশিংটন থেকে প্যারিস পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা কেউ এগিয়ে গেল। তার হয়ত ভোর পাঁচটায় শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা সবথেকে কম মাত্রায় নামে। তাঁর শরীর কিন্তু প্যারিসে গিয়ে ছ’ঘণ্টা পর মানে বেলা এগারোটার সময় ওই তাপমাত্রায় নামিয়ে আনবে নিজেকে। এই সময়টা ওই ব্যক্তির উচিৎ নিজেকে আলোর থেকে দূরে রাখা, হোটেলের পর্দা টেনে রাখা বা সানগ্লাস ব্যবহার করা।

উল্টোদিকে, যখন কেউ পশ্চিমে যায় প্রথমে তীব্র আলোর সময় পেরিয়েই সে অন্ধকারে যায়। প্যারিস থেকে যদি ওয়াশিংটন যান কেউ, যার শরীরে নিম্নতম তাপমাত্রার সময় হল ভোর চারটে, ওয়াশিংটনে গিয়ে তা হবে বেলা দশটা।

ফ্লাইটের ঠিক আগে বা পরে ঘুমিয়ে নিন। এটাই জেট-ল্যাগ কাটানোর সবচেয়ে ভালো উপায়।  যারা সারা রাত জেগে কাজ করেন বা যাদের নির্দিষ্ট কোনও সময় নেই কাজের তাঁরা জানাচ্ছেন, বিমানে চাপার আগে ঘুমিয়ে নিলে সারাদিনের ঘুমহীন ক্লান্তি থেকে বাঁচা যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে এই ধরণের ‘পাওয়ার ন্যাপ’এর সময়কাল দশ মিনিটের বেশি না হলেই ভালো। জেট ল্যাগে আমাদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলিও প্রভাবিত হয়: যকৃত, অগ্ন্যাশয়, হার্ট এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের নিজস্ব দৈনিক ছন্দ রয়েছে। যা ঘুমের সময় পালটে গেলে কাজ করার ছন্দও হারিয়ে ফেলে সাময়িক ভাবে।

নতুন টাইম জোনে আপনি খাওয়ার সময় অনুযায়ী অবিলম্বে খাবার অভ্যাসও বদলে নেবেন। হজমের ক্ষমতা ঠিক রাখতে ব্যায়াম করুন নিয়মিত। আর জল খান প্রচুর। ফ্লাইটে অনেক সময় আপনার ডিহাইড্রেশন হতে পারে, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা যেতে পারে। এই অবস্থা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খান।

আমরা সবাই  সবার থেকে আলাদা। কিছু মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সকালে উঠতে পছন্দ করেন; অন্যদের আবার  দেরি করে ওঠাই পছন্দ। তাই জেট ল্যাগ নিয়েও এক এক জনের শরীরে এক এক রকম প্রভাব পড়ে। জেট ল্যাগ কাটানোর পরামর্শ একইভাবে সবার জন্য সমান কাজ করতে পারে না।

আমাদের বিভিন্ন টিস্যুর উপর বিভিন্ন বায়োলজিক্যাল ক্লকের প্রভাব আছে।  আলো ও অন্ধকারের সাথে মস্তিষ্কের কাজের গভীর সম্পর্ক আছে যা ব্যহত হলে গোটা শরীরই ভেঙে পড়ে।



(এনডিটিভি এই খবর সম্পাদিত করেনি, এটি সিন্ডিকেট ফিড থেকে সরাসরি প্রকাশ করা হয়েছে.)
মন্তব্য

স্বাস্থ্যের খবর সাথে সুস্থ থাকার জন্য অভিজ্ঞদের টিপস, ডায়েট পরিকল্পনা জানতে, লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

................... বিজ্ঞাপন ...................

................... বিজ্ঞাপন ...................

 

................... বিজ্ঞাপন ...................

................... বিজ্ঞাপন ...................

-------------------------------- বিজ্ঞাপন -----------------------------------