হোম »  ইনফেকশন »  জনতা কার্ফু কতটা রুখবে মহামারী? কোয়ারান্টাইন আর আইসোলেশনের তফাত কী?

জনতা কার্ফু কতটা রুখবে মহামারী? কোয়ারান্টাইন আর আইসোলেশনের তফাত কী?

কলকাতার অবস্থা ঠিক কী? জনতা কার্ফু কতটা রুখবে মহামারি? কোয়ারান্টাইন আর আইশোলেশনের তফাৎ কী?

জনতা কার্ফু কতটা রুখবে মহামারী? কোয়ারান্টাইন আর আইসোলেশনের তফাত কী?

অযথা আতঙ্কিত হবেন না, চিকিৎসায় সারে এই সংক্রমণ

সংক্রমণ (Coronavirus) নিয়ে যত না সজাগ তার থেকেও আতঙ্কে জড়োসড়ো দেশ। করোনা ভাইরাস মহামারি তকমা পেতেই একে নিয়ে গুজবের শেষ নেই। কোয়ারান্টাইন, সেল্ফ আইসোলেশন, মহামারী এবং রবিবারের জনতা কার্ফু শব্দগুলো যেন হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি আরও কমিয়ে দিচ্ছে। সেই সঙ্গে রোজই লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা। সেই জায়াগায় দাঁড়িয়ে সাধারণের মনে হাজারো প্রশ্ন। কলকাতার অবস্থা ঠিক কী? জনতা কার্ফু (Janata Curfew) কতটা রুখবে মহামারী? কোয়ারান্টাইন (Quarantine) আর আইসোলেশনের (Isolation) তফাত কী? কারা হাই রিস্ক জোনে কারা আছেন? ঘরে থাকলে কি মাস্কের প্রয়োজনীতা আছে? নিয়ম মানলে কবে মুক্তি মিলবে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের হাত থেকে? NDTV-কে মুঠোফোনে সহজ উত্তরে জানালেন বেলভিউ হাসপাতালের (Bellevue Hospital) রেসপিরেটরি বিভাগের চিকিৎসক অনির্বাণ নিয়োগী (Dr. Anirban Neogi)----

ks2s8fc

Photo Credit: iStock

প্রশ্ন: জনতা কার্ফু কতটা রুখবে করোনা ভাইরাসকে?

উত্তর: WHO শুরু থেকেই জানিয়েছে এই রোগের চারটি পর্যায়। স্টেজ ওয়ানে ভাইরাস বিদেশ থেকে আসছে। দ্বিতীয় স্টেজে দেশের মধ্যেই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। স্টেজ থ্রিতে সেটা ছড়িয়ে পড়ছে সমাজে। চতুর্থ স্টেজে এটি মহামারী হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা এখন দ্বিতীয় স্টেজে আছি। স্টেজ থ্রিতে পৌঁছোনোর দোরগোড়ায় দেশ। এখন থেকে ব্যবস্থা না নিলে স্বাস্থ্য পরিষেবা একসময় ভেঙে পড়বে। বিশ্বের কোনও দেশই এই মহামারিকে আটকাতে পারবে না। তাই একটা দিন 'জনতা কার্ফু'র মাধ্যমে সমস্ত বন্ধ রেখে সমাজ এবং সাধারণের মধ্যে রোগের সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা। এবং একটি দিন কেউ রাস্তায় না বেরোনো মানে সংক্রমণ অনেকটাই কম ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে। 

প্রশ্ন: কলকাতার পরিস্থিতি এই মুহূর্তে কতটা ভয়াবহ?

উত্তর: এখনও শহরে লোকালি ইনফেকশন খুবই কম। যেটুকু ছড়িয়েছে তা বাইরে থেকে আসা মানুষদের মাধ্যমেই হয়েছে। শনিবার, দমদমের এক বাসিন্দা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। অনেকেই বলছেন, তাঁর বিদেশ যাত্রার কোনও ইতিহাস নেই। একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার মত, বিদেশে না গিয়েও অফিসে বা রাস্তায় বিদেশির সংস্পর্শে এলেও কিন্তু সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। কার মধ্যে ভাইরাস রয়েছে সেটা যেহেতু বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। ফলে, আপাতত আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি কলকাতায়। তবে আইসিএমআর আরও ল্যাব খুলেছে, পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালকে। তখন হয়ত সংখ্যা বাড়তে পারে আক্রান্তের। তবে দেড়শো কোটি দেশবাসীর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও খুবই কম।

প্রশ্ন: রিস্ক জোনে কারা রয়েছেন?

উত্তর: ষাট এবং সত্তরোর্ধ্বরা এই জোনে রয়েছেন। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিশ, হাই প্রেসার, হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট  সহ ফুসফুসের রোগ রয়েছে তাঁদের পক্ষে এই সংক্রমণ সত্যিই ভয়ের। এঁরাই বেশি ভর্তি হচ্ছেন। মৃত্যুও হচ্ছে এঁদের বেশি। 

প্রশ্ন: বাচ্চা এবং মাঝবয়েসীরা?

উত্তর: এঁরা অপেক্ষাকৃত কম। হচ্ছে না একেবারে তা নয়। তবে সংখ্যাটা নগণ্যই। আর এরা কিন্তু সুস্থ হয়ে উঠছেন। বলা ভাল, যুঝতে পারছেন রোগের সঙ্গে। তবে ৮০ শতাংশ রোগীরই মাইল্ড অ্যাটাক হচ্ছে। ফলে, নিয়ম মানলে, সঠিক সময়ে ধরা পড়লে এবং চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন রোগী। ৭০ শতাংশ সিভিয়ার এবং ৫ শতাংশ ভেরি সিভিয়ার। শেষের তালিকায় যাঁরা আছেন তাঁরা ভেন্টিলেশনে চলে যাচ্ছেন।

mu06rfj8

Photo Credit: iStock

প্রশ্ন: সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক সবাইকে পড়তেই হবে?

উত্তর: ঘরে যাঁরা থাকছেন তাঁদের মাস্কের কোনও প্রয়োজন নেই। WHO এই নির্দেশিকা এনেছে, কেন্দ্রও এনেছে সেই গাইডলাইন। ঘরে-বাইরে সবাই N-95 মাস্ক পরে রয়েছেন। এর কোনও দরকার নেই। এর ফলে. চিকিৎসকেরা মাস্ক পাচ্ছেন না। রোগী দেখছেন মাস্ক ছাড়া। এটা কিন্তু আরও ভয়াবহ। তাই মাথায় রাখতে হবে, কোনও জমায়েত বা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, সর্দি-কাশি-হাঁচি হলে এবং রোগীর সঙ্গে দেখা করা ছাড়া মাস্কের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই সাধারণ মানুষের।

প্রশ্ন: ঋতুবদলের সময় অনেকেই সর্দি-কাশিতে ভোগেন। সাধারণ ফ্লু-এর থেকে করোনাকে আলাদা কী করে করবেন তাঁরা?

উত্তর: বোঝা খুবই মুশকিল। কারণ, ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেই অল্পবিস্তর এই সমস্ত সমস্যায় ভোগেন।তবে, করোনা সংক্রমণে নাক দিয়ে জল পড়ে না। আর শুকনো কাশি হয়। বাকি উপসর্গ সাধারণ ফ্লু--এর মোই।তাই করোনা ভাইরাস আক্রান্তু দেশ থেকে সফর শেষে ফেরার ১৪ দিনের মধ্যে যদি  জ্বর, গলাব্যথা, কাশি, শ্বাসকষ্ট হয় এবং তিনি যদি ডায়াবেটিক, অ্যাজমা, হাই প্রেসারের রোগী হন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। লক্ষ্মণ না থাকলেও তিনি সেল্ফ আইসোলেশন বা কোয়ারান্টাইনে যেতে পারেন সাবধানতা অবলম্বনের জন্য। তবে খাওয়াদাওয়ায় কোনও বাছবিচার নেই।

প্রশ্ন: সেলফ আইসোলেশন আর কোয়ারান্টাইন বুঝতে পারছেন না অনেকেই। তফাত বুঝিয়ে দেবেন?

উত্তর: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসার পর সচেতন নাগরিকের উচিত ১৪ দিনের জন্য নিজেকে সবার থেকে সরিয়ে নেওয়া। কারণ, সংক্রমণ এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বর্হিপ্রকাশ ঘটতে ১৪ দিন সময় লাগে। তার আগেই নিজেকে সরিয়ে নেওয়াকে বলে সেল্ফ কোয়ারান্টাইন। এরপর তিনি পরীক্ষা করে যদি নেগেটিভ রিপোর্ট পান তাহলে আর কোয়ারান্টাইনের দরকার নেই। NICE-থেকে পজিটিভ রিপোর্ট এলে তখন তাঁকে আইসোলেশনে থাকতে হবে হাসপাতালে। কোয়ারান্টাইেন থাকার সময় খাবার পাত্র, পোশাক, ঘর, টয়লেট সমস্ত আলাদা হতে হবে।

প্রশ্ন: পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আর কতদিন লাগবে?

উত্তর: WHO, সরকারের নির্দেশিকা মেনে আপাতত ঘরবন্দি থাকলে, কোনও কাজের পর, কিছু ছোঁয়ার পর, রোগীর কাছে থেকে আার পর বা রাস্তা থেকে আসার পর হাত ধুয়ে স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে এই সংক্রমণ বশে আসবে। কোনও নিয়ম না মানলে, সচেতন না হলে, কোয়ারান্টাইন না হলে--- এর শেষ কোথায়, কে বলতে পারে?

  

মন্তব্য

স্বাস্থ্যের খবর সাথে সুস্থ থাকার জন্য অভিজ্ঞদের টিপস, ডায়েট পরিকল্পনা জানতে, লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube

................... বিজ্ঞাপন ...................

................... বিজ্ঞাপন ...................

 

................... বিজ্ঞাপন ...................

-------------------------------- বিজ্ঞাপন -----------------------------------
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com